
সিন্ধু সভ্যতা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন এক সভ্যতা। তাই পর্যটকদের কাছে ভারত সবসময়ই আকর্ষণীয়। বরাবরই ভারতের সভ্যতা-সংস্কৃতির জন্য সুনাম ছিল। শুধু সংস্কৃতি বা ঐতিহ্য নয়, এমন কিছু রহস্যও ভারতের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে যা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে আছে। এরকম কিছু অবিশ্বাস্য স্থান সম্পর্কে জেনে নিন। সুযোগ হলে ঘুরেও আসতে পারেন এসব স্থান থেকে।

কেরালার মালাপ্পুরম জেলার কোদিনহি শহরকে জমজের শহর বলা হয়। এ গ্রামে ২০০ জোড়া যমজ সন্তান রয়েছে। দুই জোড়া তিনটি করে সন্তান রয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এখানকার মেয়েরা অন্য স্থানে গিয়ে বাস করলেও তাদের জমজ সন্তানই হয়।
রজাহীন সব বাড়ি


মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার একটি স্থান শনি-শিঙ্গাপুর। এ স্থানটি শনি মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। এ গ্রামের কোনো বাড়িতে দরজা নেই। এমনকী এলাকার দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, সরকারি বিল্ডিংয়েও কোনো দরজা নেই। এখানে কোনো অপরাধ হয় না। এলাকার ইউকো ব্যাংকে শাখায়ও কখনো তালা ঝোলানো হয় না।

রামনাথপুরমের কালায়ুর গ্রামে মোট ৩৫৬টি ঘর রয়েছে। সবমিলিয়ে বসবাস করেন ১৪৫০ জন। এরমধ্যে ২০০ জনের বেশি মানুষ রান্নার কাজ করেন। এরা সবাই পুরুষ। এখানে নারীর চেয়ে পুরুষকেই রান্নার দায়িত্ব সামলাতে হয়।

মারোত্থিচাল গ্রামের জনসংখ্যা ৯ হাজার। এর প্রায় সবাই দাবা খেলেন। এক সময় এ গ্রামের মানুষ মদের নেশায় আসক্ত ছিলো। তখন উন্নিকৃষ্ণণের বয়স ১৬ বছর। তিনি প্রথম গ্রামে দাবা খেলা আনেন। মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার ববি ফিশারের খেলা দেখে তিনি গ্রামবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেন। দাবা খেলা শেখানো শুরু করেন। পরে গ্রামের সবাই মদ ছেড়ে দাবায় আসক্ত হয়ে পড়ে।

এ স্থানটি ওম সিং রাঠৌরের স্মৃতিতে তৈরি। নাম দেওয়া হয়েছে বুলেট বাবা মন্দির। ১৯৮৮ সালের ২ ডিসেম্বর বাইক দুর্ঘটনায় ওম সিংয়ের মৃত্যু হয়। পরে বাইকটি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে গেলেও রাতে বাইকটি যেকোনো ভাবে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেত। গাড়ির সব তেল বের করে নিয়েও তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এরপর সেই বাইক নিয়ে এসে বেদি বানিয়ে মন্দিরের মতো করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী লঙ্কা থেকে সীতাকে নিয়ে আসার জন্য বানর সেনা এই পাথর ফেলে সমুদ্রে সেতু বানিয়েছিল। আজো রামেশ্বরমে গেলে এই ভাসমান পাথর দেখতে পাওয়া যায়। রামায়ণ অনুযায়ী পাথরে রামচন্দ্রের নাম খোদাই করলে তা পানিতে ভেসে থাকে।

কারনি মাতা মন্দিরকে অনেকে ইঁদুরের মন্দির বলেও জানেন। এখানে ইঁদুরকে পূজা করা হয়। বলা হয়, ইঁদুর কারনি মাতার কনিষ্ঠতম পুত্র যে পানিতে ডুবে মারা যায়। পরে যমের কাছে ছেলের প্রাণভিক্ষা প্রার্থনা করলেও তা শোনেননি যম। তবে বর দিয়ে বলেন, তার পুত্র ইঁদুর হয়ে জন্মাবে এবং সেই জন্ম শেষ হলে পরের জন্মে আবার মানুষ হয়ে জন্মাবে।

মহারাষ্ট্রের শোলাপুর জেলার শেতপালকে সাপের আঁতুরঘর বলা হয়। এখানে প্রতিটি বাড়িতে কেউটে, শঙ্খচূড়সহ সব সাপের বিশ্রামের স্থান রয়েছে। তবে এরা কারো ক্ষতি করে না। এমনকী এতোদিনে এ গ্রামে কাউকে সাপে কাটার খবর পাওয়া যায়নি।
0 Comments
ধন্যবাদ।