ধর্মের দেশ ভারত। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা- সর্বত্র বিরাজ করছে মন্দির। প্রাচীন এইসব মন্দির জুড়ে ছড়িয়ে আছে নানা রহস্য। এলাকাবাসীর দাবি, কিছু মন্দিরে কালা জাদু চলে। আবার কিছু মন্দিরে ভূতের অস্তিত্বও মেলে। তেমনই কয়েকটি মন্দিরের তালিকা করেছি আমরা যেগুলি দেশের অন্যান্য মন্দিরের তুলনায় অন্যরকম।

১) করনীমাতা মন্দির...



ইদুর মন্দির বলেও পরিচিতি এই মন্দিরের। রাজস্থানের বিকানির থেকে ৩০ কিমি দক্ষিণে দেশানকে এই মন্দির অবস্থিত। প্রায় ২০,০০০ ইদুর রাখা আছে এই মন্দিরে। তাদের খাওয়া-দাওয়া, দেখভাল এবনহ পুজো করা হয়। এত ইঁদুর কোথা থেকে প্রতিদিন আসে সেটা রহস্য। তবে স্থানীয়রা এই মন্দিরকে দূর্গার অবতার বলে মানেন।

২) কামাখ্যা মন্দির...



আসামের গুয়াহাটির এই মন্দির হিন্দুদের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র। পুরাণ মতে, দেবাদিদেব শিবের প্রথম স্ত্রী সতী আগুনে ঝাঁপ দিয়ে নিজেকে শেষ করেন। এটা দেখে নিজের ক্রোধ সংবরণ করতে না পেরে সতীর মৃতদেহ কাঁধে শিব তাণ্ডব শুরু করেন। পৃথিবীকে বাঁচাতে বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খণ্ড খণ্ড করে কেটে ফেলতে থাকেন। মনে করা হয়, এখানে সতীর গর্ভ এবং যোনী পড়েছিল।

বিশ্বাস এই মন্দিরের প্রতিমা প্রতিবছর জুলাই মাসে রজঃস্বলা হন। সেইসময় মন্দিরের পাশের ব্রক্ষ্মপুত্র নদী লাল হয়ে যায়। উপস্থিত ভক্তমন্ডলীকে দেওয়া হয় নদীর পবিত্র জল।

৩) বালাজি মন্দির...

                                                                                                                                                     

রাজস্থানের দৌসা জেলায় অবস্থিত এই মন্দির। গোটা মন্দির চত্বর জুড়ে বিরাজ করছে এক অলৌকিক বাতাবরণ। বিশেষত এই মন্দিরে ভূতের আনাগোনা থাকে বলে বিশ্বাস স্থানীয়দের।
এই মন্দির পরিদর্শনের সময় ভক্তরা অনেক আজব জিনিস দেখতে পান। যার কোনও ব্যাখ্যা  হয় না। অনেকে ফুটন্ত জলের ভেতর নিজেদের আবিষ্কার করে। বিভিন্ন রোগের উপশমের জন্য মানুষকে চেন দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

৪) কেদারনাথ মন্দির...


২০১৩ সালে, উত্তরাখণ্ডের উপর বিশাল বন্যা বয়ে গেছে। সেই ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে ১৯৭ জন প্রাণ হারায়। প্রায় ২৩৬ জন আহত হয়, আর ৪০২১ জন নিখোঁজ হয়েছিল। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোট ২,১১৯ টি বাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, ৩,০০১ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং ১১,৭৫৯ টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে এরকম ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই ঘটেছিল এক অলৌকিক কাণ্ড। এই ঢলে কেদারনাথ মন্দির খুব সহজেই ভেসে যেতে পারত। কিন্তু বিস্ময়করভাবে সুবিশাল একটি প্রস্তরখণ্ড হিমালয় থেকে গড়িয়ে আসে। পাথরটি ঠিক মন্দিরের সামনে এসে স্থির হয় এবং প্রচণ্ড পাহাড়ি ঢলের স্রোত থেকে মন্দিরকে রক্ষা করে। এমন অদ্ভূত ঘটনাটিকে ডিসকভারি চ্যানেলও তাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে। ঘটনাটিকে ভক্তরা বিবেচনা করছেন, যেন স্বয়ং ভগবান নিজেই তার মন্দিরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করেছেন।

কেদারনাথ মন্দিরের অনন্যসাধারণ স্থাপত্য আর পরম আধ্যাত্মিক পরিবেশ ধার্মিক ও আধ্যাত্মিক কোটি কোটি মানুষকে আকর্ষণ করে চলেছে।

৫) হনুমান মন্দির...


উত্তরপ্রদেশের জালাউন জেলার জাগ্নেও গ্রামের হনুমান মন্দির ঘিরে আছে বহু অলৌকিক ঘটনা। সম্প্রতি এই মন্দিরের একটি হ্যান্ডপাম্প ঘিরে রহস্য জমাট বেঁধেছে। কারণ, এই পাম্পের জল খেলে উপশম হচ্ছে সর্ব রোগের। এলাকাবাসীর কথায়, মধ্যপ্রদেশের এক সাধু এসেছিলেন মন্দিরে। ছিলেন বেশ কয়েকদিন। তারপর থেকেই মন্দিরের ওই হ্যান্ডপাম্প এমন বিশল্যকরণীর মতো আচরণ করছে।


আরো পড়ুন...

কুমারী পুজোর উপকার কী? কী কী লক্ষণ দেখে ‘কুমারী’ বাছা হয়?

..............................